1. kabir28journal@yahoo.com : Abubakar Siddik : Abubakar Siddik
  2. kabir.news@gmail.com : Kabir :
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন

লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমে দেশের বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট চিনিকলের ৬১ তম আখ মাড়ায় মৌসুমের উদ্বোধন

সাংবাদিকের নাম:
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৫৩ ০০০ জন পড়েছে।

জনজীবন ডেষ্ক—

লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমে দেশের বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট চিনিকলের ৬১ তম আখ মাড়ায় মৌসুমের উদ্বোধন করা হলো।
আজ শুক্রবার বিকেল ৩ টায় জয়পুরহাট চিনিকল এর আখ মাড়াই এর জায়গায় মিলাদ ও দোয়ার অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শেখ শোয়েবুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ডোঙ্গায় আখ ফেলে আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মো: আখলাছুর রহমান । বর্তমানে জয়পুরহাট চিনিকলটির লোকসান রয়েছে ৭শ ৩৯ কোটি টাকা ।।এ অর্থ বছরে ২ হাজার ২৪ একর জমি থেকে ৩৫ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই এর লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে চিনি আহরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬.০২ মেট্রিক টন।গত মৌসুমে ১ হাজর ৮০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য জয়পুরহাট চিনিকল লোকসারের বোঝা মাথায় নিয়ে ৬১ মাত্রা থাকলেও উৎপাদন হয়েছে ১১শ ৯২ মেট্রিক টন চিনি। বর্তমানে চিনিকলে ২ কোটি টাকা মূল্যের ৫শ ৮৭ দশমিক ৯১২ মে. টন চিটাগুড় এবং ৮ লাখ টাকা মূল্যের ৬ দশমিক ৪৪০ মে:টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে।
১৯৬০ সালে প্রায় ২১৬ একর জমির উপর ২৪৭কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত হয় জেলার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট চিনিকল।চিনি উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬৩ সালে। এরপর থেকেই এ জেলা ও আশপাশের জেলা গুলোতে কৃষকরা ব্যাপক আখ চাষ শুরু করে। চিনি উৎপাদনে এই সুগার মিলটি ছিল দেশের শীর্ষে।
বর্তমানে আখের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমাগত লোকশান গুনেই চলেছে। গত মৌসুমে চিনিকলটি চালু ছিল মাত্র ১৯ দিন। অথচ এক সময় চিনিকলটি ৫ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত আখ মাড়াই চলতো।জেলার একমাত্র ভারী এ শিল্পপ্রতিষ্ঠাটি বিপুল পরিমান লোকসানে বন্ধের উপক্রম।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আখ চাষ করতে ১২ থেকে ১৪ মাস সময় লাগে। কিন্তু একই সময়ে সেই জমিতে তিন-চারটি ফসল চাষ করা যায়, লাভও বেশি হয়। ধান, আলু ,সরিষাসহ অন্যান্য ফসল চাষ করলে উত্তোলণের পর হাট বাজারে বিক্রি করলে টাকাও পাওয়া যায় সাথে সাথে।সেই তুলনায় আখের দাম কম ও সময়ও বেশি লাগায় আখ চাষ করলে লোকসান হয়। ফলে আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা।
জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখলাছুর রহমান বলেন আখ চাষকে লাভবান করতে আখের সাথে সাথী ফসল হিসেবে অন্য ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।গত মৌসুমে আখের মূল্য ১৮০ টাকা মণ ছিল। এবার প্রতিমণ ২২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সহ এবার ২কোটি ৮৭ হাজার টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকেও আখের সাথে সাথী ফসল হিসাবে বিভিন্ন রবিশস্য উৎপাদন করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিনকলটি চালু রাখতে মিল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এক্ষেত্রে কৃষকরা এগিয়ে আসছে আমরা বেশ সাড়া পাচ্ছি।
বিশেষজ্ঞ মহল বলছে এখনই সময় এই ভারি শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে আখের পাশাপাশি আলু ,ভুট্টা ,গম, ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে উদ্বোধ¦ করলে আবার কৃষকরা আখ লাগিয়ে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখবে বলে জানান।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরো সংবাদ